কারাগারে আটক বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দের নামে থানায় আরো একটি মামলা দায়ের হয়েছে। চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি দেখানো,  প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বগুড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডেরর ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য ও অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম মামলা দায়েরের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বগুড়া রেলওয়ে (কর্মচারি) কল্যাণ ট্রাস্টের লীজ নেওয়া ৪ দশমিক ৪৮ একর জায়গায় নির্মাণকাজের জন্য শুকরা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান আকন্দকে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। মার্কেট নির্মাণ শেষে তিনি বেআইনী ও প্রতারণামূলক ভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার নামে তিনজনের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা এবং মুদ্রণপল্লী বগুড়ার পক্ষে আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে দোকানের পজিশন হস্তান্তরের জন্য ১৭ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দোকানের পজিশন হস্তান্তরের কোনো ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও গোপনে তিনি এ কাজ করেছেন। এ ছাড়াও আরো অনেকের সাথে ভুয়া ও অবৈধ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, বাদি বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বগুড়া রেল স্টেশন এলাকায় তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,  সমিতিকে লাভের টাকা তো দেবেই না বরং আরো ৪ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে সমিতির লোকজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বগুড়া রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী মার্কেটের অবৈধ স্থপনা উচ্ছেদ করা হয়। ওই স্থাপনা নির্মাণের ঠিকাদার ছিলেন আব্দুল মান্নান আকন্দ। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সেখানে বগুড়া রেলওয়ের বুকিং সহকারী রায়হান কবির ও অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে অভিযোগকারী মাহমুদুন্নবী রাসেলের ওপরে হামলা চালানো হয়। ওই হামলার ঘটনায় মার্কেট কমিটির পরিচালক ও আহত রায়হান কবিরের বাবা হায়দার আলী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রধান আসামী ছিলেন আব্দুল মান্নান আকন্দ।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই মামলায় তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক শুনানী শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বগুড়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জী জানান, আদেশের পরপরই তাকে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন : বগুড়ায় হাজতে পাঠানো হলো চেয়ারম্যান প্রার্থীকে

উল্লেখ্য, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত পৌর নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আব্দুল মান্নান আকন্দ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। এর আগে শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মান্নান আকন্দ।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews