জেরুজালেমে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মারধরের করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রবীণ এ সাংবাদিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার জেরুজালেমের শহর শেখ জাররাহর সেন্ট লুইস ফ্রেঞ্চ হাসপাতাল থেকে শিরিনের মরদেহ ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় হাজারো ফিলিস্তিনি হাসপাতালের সামনে ভিড় জমায়। হাসপাতাল থেকে বের করে সাংবাদিক শিরিনের কফিন নেওয়া হয় ওল্ড সিটির জাফা গেটে। সেখানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার পর উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি পুলিশ। ক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের ব্যাপক মারধর করা হয়।

খবরে আরও বলা হয়, সাংবাদিক শিরিনের মরদেহ কফিনে করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়াচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শ্লোগানও দেন। তারা বলেন, আমরা আমাদের রক্ত ও আত্মা দিয়ে তোমার ঋণ শোধ করব শিরিন। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের চলার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে, কয়েকজনকে লাথি দেয়।

হট্টগোলের সময় শিরিনের কফিন বহনকারী দলটি আটকে যায়। এ সময় একটি স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণ হলে কফিনটি বহনকারীদের হাত থেকে পড়ে যায়। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যে কফিনটি উদ্ধার করে একটি গাড়িতে রাখা হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে শিরিনের কফিনটি জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে ভার্জিনের ক্যাথেড্রালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে মাউন্ট জিয়ন প্রোটেস্ট্যান্ট কবরস্থানে বাবা-মা’র পাশে সমাহিত করা হয় শিরিনকে।

আল জাজিরা নেটওয়ার্ক তাদের সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহের কফিন বহনকারীদের ওপর ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর হামলার নিন্দা করেছে। এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, এটি এমন একটি দৃশ্য যা সমস্ত মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী জেরুজালেমের ফরাসি হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। শেষকৃত্যের শুরুতে প্রয়াত শিরিনের শোকাহতদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের মারধর করেছে। এটি ব্যাপক নিন্দনীয় ঘটনা।

এদিকে শিরিনের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়া ফিলিস্তিনিদের দাঙ্গাবাজ বলে উল্লেখ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ইহুদি রাষ্ট্রের এ বাহিনীর অভিযোগ, হাসপাতালের বাইরে একদল ফিলিস্তিনি তাদের কর্মকর্তাদের ওপর পাথর ছুড়তে শুরু করে। নিজেদের রক্ষায় তারা চার্জ করতে বাধ্য হয়।

একজন বিশিষ্ট সাংবাদিকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে এমন হামলায় বিরক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা শিরিনের শেষকৃত্যের পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন বলেন, প্রতিটি পরিবারই তাদের প্রিয়জনকে মর্যাদা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ বিদায় জানানোর অধিকার রাখে।

রয়টার্সের খবরে আরো বলা হয়, আল জাজিরার সাংবাদিকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে এমন হামলা-মারধরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিশর ও কাতার। জাতিসংঘের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক জানিয়েছেন, শুক্রবারের এ ঘটনায় যে দৃশ্য সামনে এসেছে তা খুবই মর্মান্তিক। ঘটনাটিকে আতঙ্কিত বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

গত বুধবার (১১ মে) ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংবাদ সংগ্রহের সময় নিহত হন আল জাজিরার প্রবীন সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহে। সাংবাদিকতার দীর্ঘ জীবনে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। জেরুজালেমে জন্ম নিলেও মার্কিন নাগরিকত্ব ছিল তার। বন্ধু ও সহকর্মীরা শিরিনকে একজন সাহসী ও দয়ালু সাংবাদিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১০৬ ঘণ্টা, ১৪ মে, ২০২২
এমজে



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews