আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানে থাকা ভারতীয় উৎসের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের একটি অংশ এখন পাকিস্তানে সহিংসতা ছড়াতে ব্যবহার করছে তালেবানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এসব অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা জোরদার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র ও কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান সরকারের পতনের পর তালেবান যে বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তার মধ্যে আফগান ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্সেসকে (এএনডিএসএফ) সরবরাহ করা ভারতীয় সামরিক সরঞ্জামও ছিল।
সম্প্রতি সময়ে আফগান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অংশ হিসেবে ভারত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, যানবাহন ও সামরিক সহায়তা দিয়েছিল।
পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এসব অস্ত্রের একটি অংশ টিটিপির হাতে পৌঁছেছে। এর ফলে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলার সংখ্যা ও প্রাণঘাতীতা বেড়েছে।
সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় চালানো এসব হামলায় উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে ইসলামাবাদ।
জাতিসংঘের কিছু পর্যবেক্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। যদিও তালেবান কর্তৃপক্ষ সরাসরি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে পাকিস্তান বলছে—আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করেই তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ভারত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, আফগানিস্তানে তাদের সামরিক সহায়তা ছিল সে দেশের বৈধ সরকারের জন্য এবং তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের দায় ভারতের নয়।
তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের ক্ষমতার পালাবদলের পর অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানোই আজকের এই সংকটের মূল কারণ।