ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে নতুন করে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) আপাতত মিলছে না। পুরনো আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় কমে এসেছে। আমদানি কমায় সরবরাহ কমে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬/৭ টাকা। আইপি ইস্যু করা না হলে আসন্ন রমজানে সরবরাহ সংকটের কারণে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকি। মাঝে বন্দর দিয়ে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম ২৮ থেকে ৩০ টাকা থেকে কমে ১৯ থেকে ২০ টাকায় এসেছিল। এখন আমদানি কম হওয়ায় দুই দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। রমজান না আসতেই যেভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলো তাতে সামনে কী হয় সেই চিন্তা করছি।’

পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভারতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সাড়ে তিন মাস পর ২ জানুয়ারি থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। তবে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক আরোপ ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম কম হওয়ার কারণে ২৭ জানুয়ারি থেকে আবার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ও দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় গত ৪ মার্চ থেকে পুনরায় বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনা শুরু হয়। রমজানকে ঘিরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমদানি বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা।’

তিনি জানান, মার্চের শুরুতে বন্দর দিয়ে ৪/৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হতো। পরে তা বেড়ে ২০/২৫ ট্রাক হতে থাকে। তবে মার্চের শেষ থেকেই তা আবার দিনে তিন-চার ট্রাকে নেমে আসে।

দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমে ১৯ থেকে ২০ টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন পেঁয়াজ আসা কমে যাওয়ায় ফের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

আমদানিকারকরা জানান, দেশি পেঁয়াজের দাম যাতে ভালো পাওয়া যায় সেজন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার আইপি ইস্যু বন্ধ রেখেছে। ফলে আগে যাদের পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ছিল, তারাই ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে পারছেন। বর্তমানে সেই পুরনো আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের আমদানি আবার কমে এসেছে। সরবরাহ কমায় ইতোমধ্যে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।

আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিটের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি নতুন করে আইপি দেওয়া হয় তাহলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি যেমন বাড়বে, তেমনি দাম কমে আসবে। আর যদি আইপি খুলে দেওয়া না হয় তাহলে আইপি না থাকার কারণে রমজানে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।’

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পেঁয়াজের আইপি যেগুলো ইস্যু রয়েছে সেগুলোই। নতুন করে পেঁয়াজের আইপি ইস্যুর কোনও সম্ভাবনা নেই বা পাওয়া যাচ্ছে না। আইপি যাদের রয়েছে সেই সংখ্যাও কমে গেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে বেশিরভাগ আইপির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সর্বশেষ এ মাসের ২৯ তারিখে শেষ হবে। এরপরে আর আইপি না থাকায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews