স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে

বাংলারজমিন ২২ নভেম্বর ২০২০, রোববার



গত ফেব্রুয়ারি মাসে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরিনের বিয়ে হয় নীলফামারী  জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার সঙ্গে। এটা মাসুদ রানার দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মাসুদ রানা নানা অজুহাতে ফারজানার পরিবারের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করতে শুরু করেন। নানা অজুহাতে সে ফারজানা ও তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে। বিচারক স্বামীর চাহিদা পূরণ করতে ফারজানা ও তার পরিবারের সস্যরা বেশ কয়েক দফায় বহু টাকা প্রদান করেছেন। কিন্তু দিন দিন মাসুদ রানার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফারজানার সঙ্গে তার সম্পর্ক অবনতি  ঘটে।

এদিকে গত ১১ই নভেম্বর মামলার বাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দিলে বাদী তার আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল গফুরের মাধ্যমে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন স্পেশাল বিচারক এটিএম মুছার আদালতে হাজির হন। বিচারক বাদীকে টানা ৪০ মিনিট আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ের বাইরেও  বেশকিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বাদীকে প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী ফারজাহান নাসরিন। তিনি বলেন, বিচারক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আমাকে ভরা আদালতে বিব্রত করে  তোলেন। এক পর্যায়ে আদালত একটি অস্পষ্টভাবে লেখা কাগজে আমাকে স্বাক্ষর করতে বললে আমি তা করতে অস্বীকার করি। আমি আদালতকে অনুরোধ করি বিষয়টি টাইপ করে স্পষ্টভাবে লিখে আনলে আমি স্বাক্ষর করবো। কিন্তু আদালত আমার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে প্রহণ করে উল্টো আমাকে  শোকজ করবে মর্ম সতর্ক  করলে আমি আদালত কক্ষ ত্যাগ করি। এর পর পরই বিচারক তার পিয়নের মাধ্যমে আমাকে তার খাস কামরায় দেখা করতে বলেন। কিন্তু আমি ও আমার মা বিচারকের খাস কামরায় দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করায় আদালত আমাকে মামলার বিষয়ে  শোকজ করে আগামী ২৩শে নভেম্বরের মধ্যে তার জবাব দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেন। আমি গত ১৭ই নভেম্বর ওই শোকজ নোটিশের জবাব আদালতে দাখিল করেছি। বাদী বলেন, আমি বিচার প্রার্থনা করে আবার শোকজ নোটিশ খাচ্ছি। এটা একটি মেয়ে হিসেবে আমার জন্য লজ্জার। তিনি বলেন, যেহেতু মামলার বিবাদী একজন বিচারক। ফলে সঙ্গত কারণেই আমি ধরে নিচ্ছি যশোরের বিচারিক আদালতের বিচারক এটিএম মুছা বিবাদীর পক্ষ অবলম্বন করে আমাকে অযথা হয়রানি করছেন।
বাদী ফারজানা বলেন, জুডিশিয়ালি ইনকোয়ারি রিপোর্টে  আমার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তারপরও বিচারিক আদালত আমার মামলাটির বিচার কার্য নিয়ে এক প্রকার টালবাহানা করছে। ফলে আমি ন্যায় বিচার পাবো না  ধরে নিয়েই ইতিমধ্যে আমি আইনমন্ত্রী ও আইন সচিব মহোদয়ের কাছে লিখিত বিচার প্রার্থনা করেছি।
এ বিষয়ে ফারজানার আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা নিশ্চিত আমার মক্কেল ন্যায় বিচার পাবেন না। কারণ জুডিশিয়াল তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে থাকার পরও বিচারক মামলাটি শুনানিতে না নিয়ে উল্টো বাদীকে শোকজ করেছেন। আমরা ইতিমধ্যে শোকজ  লেটারের জবাব দিয়েছি। এখন বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।
বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কা যবিপ্রবি শিক্ষিকার
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন স্পেশাল আদালতের স্পেশাল পিপি এডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আদালত বাদীর আবেদনটি আমলে নিয়ে তদন্ত করতে পাঠায়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তদন্ত শেষে আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেছে।

বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যবিপ্রবি’র সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরিন। তিনি আশঙ্কা করছেন মামলার আসামি মাসুদ রানা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ায় তিনি বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে মামলার রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। ফলে তিনি ন্যায় বিচারের জন্য আইনমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।গত ফেব্রুয়ারি মাসে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরিনের বিয়ে হয় নীলফামারী জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার সঙ্গে। এটা মাসুদ রানার দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মাসুদ রানা নানা অজুহাতে ফারজানার পরিবারের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করতে শুরু করেন। নানা অজুহাতে সে ফারজানা ও তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে। বিচারক স্বামীর চাহিদা পূরণ করতে ফারজানা ও তার পরিবারের সস্যরা বেশ কয়েক দফায় বহু টাকা প্রদান করেছেন। কিন্তু দিন দিন মাসুদ রানার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফারজানার সঙ্গে তার সম্পর্ক অবনতি ঘটে।একপর্যায়ে মাসুদ রানা স্ত্রী ফারজানাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন। তাকে মারপিট করতে থাকেন। বিষয়টি প্রথম পর্যায়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ফারজানা ও মাসুদ রানার পরিবার। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার দাবি করে ফারজানা গত মাসে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন। মামলাটি আদালত রেকর্ড না করে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারিতে পাঠায়। ইতিমধ্যে ইনকোয়ারি টিমের তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ওই রিপোর্টে ফারাজানার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। কিন্তু অদ্যাবধি আদালত ফারজানার আবেদনটি মামলা হিসেবে রেকর্ড বা শুনানির পর্যায়ে নেয়নি আদালত।এদিকে গত ১১ই নভেম্বর মামলার বাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দিলে বাদী তার আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল গফুরের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন স্পেশাল বিচারক এটিএম মুছার আদালতে হাজির হন। বিচারক বাদীকে টানা ৪০ মিনিট আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ের বাইরেও বেশকিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বাদীকে প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী ফারজাহান নাসরিন। তিনি বলেন, বিচারক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আমাকে ভরা আদালতে বিব্রত করে তোলেন। এক পর্যায়ে আদালত একটি অস্পষ্টভাবে লেখা কাগজে আমাকে স্বাক্ষর করতে বললে আমি তা করতে অস্বীকার করি। আমি আদালতকে অনুরোধ করি বিষয়টি টাইপ করে স্পষ্টভাবে লিখে আনলে আমি স্বাক্ষর করবো। কিন্তু আদালত আমার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে প্রহণ করে উল্টো আমাকে শোকজ করবে মর্ম সতর্ক করলে আমি আদালত কক্ষ ত্যাগ করি। এর পর পরই বিচারক তার পিয়নের মাধ্যমে আমাকে তার খাস কামরায় দেখা করতে বলেন। কিন্তু আমি ও আমার মা বিচারকের খাস কামরায় দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করায় আদালত আমাকে মামলার বিষয়ে শোকজ করে আগামী ২৩শে নভেম্বরের মধ্যে তার জবাব দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেন। আমি গত ১৭ই নভেম্বর ওই শোকজ নোটিশের জবাব আদালতে দাখিল করেছি। বাদী বলেন, আমি বিচার প্রার্থনা করে আবার শোকজ নোটিশ খাচ্ছি। এটা একটি মেয়ে হিসেবে আমার জন্য লজ্জার। তিনি বলেন, যেহেতু মামলার বিবাদী একজন বিচারক। ফলে সঙ্গত কারণেই আমি ধরে নিচ্ছি যশোরের বিচারিক আদালতের বিচারক এটিএম মুছা বিবাদীর পক্ষ অবলম্বন করে আমাকে অযথা হয়রানি করছেন।বাদী ফারজানা বলেন, জুডিশিয়ালি ইনকোয়ারি রিপোর্টে আমার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তারপরও বিচারিক আদালত আমার মামলাটির বিচার কার্য নিয়ে এক প্রকার টালবাহানা করছে। ফলে আমি ন্যায় বিচার পাবো না ধরে নিয়েই ইতিমধ্যে আমি আইনমন্ত্রী ও আইন সচিব মহোদয়ের কাছে লিখিত বিচার প্রার্থনা করেছি।এ বিষয়ে ফারজানার আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা নিশ্চিত আমার মক্কেল ন্যায় বিচার পাবেন না। কারণ জুডিশিয়াল তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে থাকার পরও বিচারক মামলাটি শুনানিতে না নিয়ে উল্টো বাদীকে শোকজ করেছেন। আমরা ইতিমধ্যে শোকজ লেটারের জবাব দিয়েছি। এখন বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কা যবিপ্রবি শিক্ষিকারএ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন স্পেশাল আদালতের স্পেশাল পিপি এডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আদালত বাদীর আবেদনটি আমলে নিয়ে তদন্ত করতে পাঠায়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তদন্ত শেষে আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews