‘উন্নতি’ ও ‘উন্নয়ন’ এক নয়। উন্নতি মানে ওপরে ওঠা, আর উন্নয়ন হলো ওপরে তোলা। উন্নতি নিজের শক্তিতে, নিজের বুদ্ধিতে নিজেকে করতে হয়; তাতে অন্যের সহায়তা, যতটা সম্ভব নিজের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব বজায় রেখে নিজেকে নিতে হয়। আর উন্নয়ন অন্যের ইচ্ছায়, অন্যের পরিচালনায়, অন্যের কর্তৃত্বে সাধিত হয়; তাতে নিজের স্বাধীনতা থাকে না। আজকের পৃথিবীতে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, ধনী রাষ্ট্রগুলোর অর্থলগ্নিকারী বিভিন্ন সংস্থা, বৃহৎ শক্তিবর্গের বাণিজ্যনীতি, কূটনীতি, প্রচারনীতি, গোয়েন্দানীতি ইত্যাদির সঙ্গে দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়ন সম্পূর্ণ শর্তাবদ্ধ। উন্নয়নের ধারণা ও কার্যক্রম উন্নতি ও প্রগতির ধারণা ও কার্যক্রম থেকে ভিন্ন। বহিরারোপিত উন্নয়নের ধারণা এবং কথিত উন্নয়ন সহযোগীদের ও কথিত দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা নিয়ে চলতে গিয়ে দরিদ্র রাষ্ট্রগুলো দুর্বল থেকে দুর্বলতর, পরনির্ভর থেকে আরো পরনির্ভর হয়ে চলছে। দুর্বল থাকলে শোষিত ও বঞ্চিত হতে হয় এবং দরিদ্র থাকতে হয়। দুর্বলরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হতে পারে এবং নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা অর্জন করতে পারে। উন্নতির জন্য তাদের স্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা কর্তব্য। এর জন্য তাদের নিজেদের জন্য উন্নত চরিত্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি করে চলতে হয়।

উচ্চ ফলনশীল বীজ, দ্রুত বংশবৃদ্ধিকারী হাঁস-মুরগি-মাছ, পোশাকশিল্প, বিদেশে আয় করার জন্য শ্রমিক প্রেরণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা বাহিনীতে সৈন্য প্রেরণের দ্বারা বাংলাদেশ ১৯৮০-র দশক থেকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ক্রমে বিকশিত হয়ে চলছে। বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এখন অনেক কম নেয়। এখন বৈদেশিক সাহায্য নেয় এনজিওগুলো এবং সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলো। যার প্রকৃত হিসাব সরকার ও দেশবাসী কাউকেই স্বচ্ছভাবে জানানো হয় না। এনজিও ও সিএসও হলো বাংলাদেশের ভেতরে পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিবর্গের দ্বারা পরিচালিত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো এখন দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী নাম নিয়ে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি ও শিক্ষা-সংস্কৃতির ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থায় পড়েছে যে তার গুরুত্বপূর্ণ সব কিছু নির্ধারিত হচ্ছে বিদেশি অর্থলগ্নিকারী ও কূটনীতিকদের পরিকল্পনা ও আদেশ-নির্দেশ দ্বারা। বাংলাদেশে এমন কিছু লোকও আছেন যাঁরা জন্মগতভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হলেও পছন্দগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হয়েছেন। অনেকেরই ছেলে-মেয়ে ওই সব রাষ্ট্রের নাগরিক। এই লোকদের জাতীয়তাবোধ ও রাষ্ট্রবোধ বাংলাদেশের ভূভাগে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুকূল নয়। তাঁরা বলেন, বিশ্বায়নের কালে এখন রাষ্ট্রের গুরুত্ব নেই। তাঁরা জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করেন। বাংলাদেশের পরিচালনায় ও নীতিনির্ধারণে তাঁদের কর্তৃত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। যে মূলনীতি অনুসারে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো চলে, তা হলো বৃহৎ শক্তিবর্গের ‘আধিপত্য ও নির্ভরশীলতা নীতি’। এই নীতির কবলে পড়ে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো আরো দুর্বল হচ্ছে এবং স্বাধীনতা হারাচ্ছে।

পাশ্চাত্য বৃহৎ শক্তিগুলো যে আদর্শ অবলম্বন করে দুনিয়াটাকে চালাচ্ছে তা নব্য উদারবাদ। এই আদর্শ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের নামে মানুষের সামাজিক সত্তাকে অল্পই গুরুত্ব দেয়, রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে গুরুত্বহীন মনে করে, বহুত্ববাদ, অবাধ প্রতিযোগিতাবাদ ও বাজার অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে বহুত্ববাদের নামে তারা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের কিংবা বহুত্বমূলক ঐক্যের নীতি বাতিল করে এবং এনজিও ও সিএসও গড়ে তোলে।

উন্নতির ধারণা আমাদের নিজেদের, আর উন্নয়নের তত্ত্ব পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিবর্গ কর্তৃক আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। আমাদের উন্নতির ধারণাকে অপসারণ করে তার জায়গায় গ্রহণ করা হয়েছে উন্নয়নের ধারণা, যা পশ্চিমা আধিপত্যবাদীদের কর্তৃত্ব ও শোষণকে নিশ্চিত করেছে। উনিশ শতক ও বিশ শতকের প্রথমার্থের বাংলা ভাষার চিন্তক ও কর্মীদের রচনাবলিতে উন্নতি কথাটিই পাওয়া যায়, উন্নয়ন পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিকভাবে ওই সময়কার লেখক-চিন্তকদের ভূমিকা ছিল সৃষ্টির ও উন্নতির অনুকূল। উন্নয়নের ধারণা উদ্ভাবিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল প্রতিষ্ঠার পর।

বাংলাদেশের এখনকার অর্থনীতিবিদদের এবং সামনের সারির লেখক-চিন্তক-গবেষকদের ভূমিকা কি আদৌ প্রগতিশীল? আজকের দিনে শুধু ধর্মনিরপেক্ষতায় কিংবা ধর্মের বিরোধিতায় প্রগতি নেই। এখন প্রগতি সাধন করতে হলে আধুনিক যুগের প্রতিষ্ঠিত প্রত্যয়সমূহের সমালোচনা ও সংশোধন অবলম্বন করে উন্নতির নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সর্বাঙ্গীণ আদর্শিক লক্ষ্য ও সেই লক্ষ্য-অভিমুখী কর্মসূচি অবলম্বন না করে, গণতন্ত্রকে ব্যর্থ করে, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রচার করলে এবং মৌলবাদ মোকাবেলায় ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে মত্ত থাকলে তা দ্বারা ধর্মীয় শক্তির, পুরনো সংস্কার বিশ্বাসের ও জঙ্গিবাদের উত্থান বন্ধ হবে না। প্রগতির দ্বার উন্মুক্ত করতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো যে আগ্রাসন, গণহত্যা ও যুদ্ধ চালাচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো থেকে সব বিদেশি সৈন্য সরিয়ে নিতে হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০-এর দশকের প্রথম দিক থেকে বাংলা ভাষায় উন্নতি শব্দটির ব্যবহার কমিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে উন্নয়নকে। বাংলাদেশ কালে এসে উন্নতি শব্দটি আমরা সম্পূর্ণ ভুলে গেছি এবং উন্নয়ন ছাড়া আমাদের এক দিনও চলে না। আমরা আমাদের স্বকীয় ধারণাকে বিকাশশীল ও কার্যকর রাখার এবং কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের প্রয়োজনে নতুন ধারণা উদ্ভাবনের কথা ভাবিনি। উন্নতির কোনো সূচক আমরা নির্ণয় করিনি। আমরা গ্রহণ করে নিয়েছি আমাদের নিয়ে পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিবর্গের প্রয়োজনে তাদের দ্বারা উদ্ভাবিত ও তাদের দ্বারা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সাম্রাজ্যবাদী সব ধারণা, কর্মনীতি ও কার্যক্রম। আমরা ব্যবহৃত হচ্ছি সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্য সাধনের উপাদানরূপে। উন্নয়নের প্রশ্নে সর্বজনীন কল্যাণের কথা না ভেবে আমরা চিন্তা করছি শুধু উচ্চ শ্রেণির ৫ শতাংশের স্বার্থে। অর্থনীতিবিদরা তো এই পথই আমাদের প্রদর্শন করে আসছেন। তাঁরা বিশ্বায়নের কর্মী, বিশ্বায়নবাদী, তাঁদের জাতীয় কিংবা রাষ্ট্রীয় বিবেচনা অল্পই আছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ও রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিবর্গের কূটনীতিকদের নিয়ে আসছে।

সাধারণত উন্নয়নকে বর্ণনা করা হয় খুব মহিমান্বিত করে। আলোচনায় উন্নতির কিছু উপাদানকেও স্থান দেওয়া হয়। কিন্তু তা কাগুজে ব্যাপার মাত্র। বিশ্ববিস্তৃত বাজার অর্থনীতির, বহুত্ববাদের ও অবাধ প্রতিযোগিতাবাদের সব অন্যায় এই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত।

পরিবর্তন ও প্রগতি এক নয়। পরিবর্তন আপনিতেই ঘটে এবং তা মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা নিরপেক্ষ। তবে মানুষ তার প্রয়োজনে ইচ্ছা করেও পরিবর্তন ঘটায়। মানুষ সজ্ঞানে, আপন ইচ্ছায়, দূরদর্শিতার সঙ্গে চিন্তা করে যেসব পরিবর্তন সাধন করে, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে প্রগতি থাকে। প্রগতি স্বতঃস্ফূর্ত নয়, প্রগতি হলো মানুষের শুভ ইচ্ছা ও শুভবুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত গতি। ইউরোপে রেনেসাঁসের বিকাশের একপর্যায়ে বিকশিত হয়েছিল progress -এর ধারণা, যার বাংলা করা হয়েছে প্রগতি। লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলা উন্নতি শব্দটি ইংরেজি progress -এর সমার্থক। উন্নতি, প্রগতি, progress —এই তিনটি শব্দেরই অর্থের মধ্যে বৃদ্ধির সঙ্গে সদিচ্ছা, সর্বজনীন কল্যাণ সামাজিক কাজে উন্নত নেতৃত্বের ধারণাযুক্ত। এতে যুক্ত থাকে জনগণের উন্নত আর্থিক জীবনের সঙ্গে উন্নত মানসিক জীবন প্রতিষ্ঠারও লক্ষ্য। জাতীয় জীবনে উন্নতি বা প্রগতির জন্য আর্থিক সমৃদ্ধির সঙ্গে নৈতিক উন্নতি অপরিহার্য। প্রগতির জন্য ন্যায়-অন্যায়ের বাস্তবসম্মত বিবেচনা এবং ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন ও সক্রিয়তা অপরিহার্য।

প্রগতির পথ কুসুমাস্তীর্ণ থাকে না; জাতীয় জীবনে প্রগতিপ্রয়াসী সংঘশক্তির বা সংগঠনের অভাবে কখনো কখনো প্রগতির পথ বিলুপ্তও হয়ে যায়। তখন কাউকে কাউকে কঠিন ব্রত নিয়ে একা একাই পথ তৈরি করে করে সামনে চলতে হয়। তারপর প্রগতি অভিলাষী জনসম্পৃক্ত সংঘশক্তি বা সংগঠন গড়ে তোলা গেলে পথ ও বিপদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশে যে সময়টা এখন আমরা অতিক্রম করছি, তাতে এখানে প্রগতিশীল কোনো সামাজিক শক্তির সন্ধান পাওয়া যায় না। আজকাল এখানে অনেকে শুধু ধর্মনিরপেক্ষতাকে কিংবা ধর্মের বিরোধিতা করাকে প্রগতি বলে প্রচার করেন। আজকের দিনে প্রগতি সম্পর্কে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ব্যর্থ করে যাঁরা এই ধারার প্রচারে তৎপর, তাঁদের তৎপরতার ফল ভালো হচ্ছে না। বাংলাদেশে এবং আরো অনেক রাষ্ট্রে ধর্মীয় শক্তির ও পুরনো সংস্কার বিশ্বাসেরও প্রসার ঘটল কেন, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করে দেখা দরকার। গণতন্ত্রের নামে, সমাজতন্ত্রের নামে, বিশ্বায়ন ও উদারনীতির নামে যেসব অপকর্ম চালানো হচ্ছে, সেগুলোর অবসান ঘটিয়ে প্রগতির পথ উন্মুক্ত করতে হবে।

প্রগতির পথ সরলরেখার মতো নয়, তা আঁকাবাঁকা, তাতে চড়াই-উতরাই আছে। শ্রীঅরবিন্দের লেখায় আছে, ‘মানুষের মধ্যে যে একটা প্রগতি বা ক্রমপরিণতি চলিতেছে, কেহ কেহ তাহা ভ্রান্তি মাত্র মনে করেন; তাঁহাদের কল্পনা এই যে, মানবজাতি সর্বদা এক স্থানে থাকিয়া চক্রাকারে ঘুরিতেছে। অথবা তাহাদের দৃষ্টিতে বর্তমান অপেক্ষা অতীতেই অধিক পরিমাণে মহত্ত্ব বিদ্যমান ছিল এবং অগ্রগতির পথ ঊর্ধ্বমুখে না গিয়া পতনের দিকে গিয়াছে। কিন্তু এ মত ভ্রান্ত। ভ্রান্তির কারণ আমরা অতীতের উচ্চ আলোকিত স্থানের উপর অত্যন্ত বেশি দৃষ্টি রাখিয়া তাহার অন্ধকার ও ছায়াচ্ছন্ন প্রদেশসকল দেখিতে পাই না। পক্ষান্তরে বর্তমানের তমসাবৃত স্থানগুলোর দিকে দৃষ্টি দিয়া তাহার আলোকময় শক্তি, উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনাসকল দেখি না। প্রগতির পথ অবন্ধুর নয়, চলিবার পথে পতন ও উত্থান আছে, আর তাহা হইতেই এই ভুল সিদ্ধান্ত জাত হইয়াছে। ... মানুষের প্রগতি অজানা দেশের মধ্য দিয়া এক দুঃসাহসিক অভিযান।... প্রশ্ন এই—আমরা কোন দিকে চলিয়াছি, প্রকৃত পথ কোনটি এবং আমাদের এই সমুদ্রাভিযানে আমরা কোন বন্দরে পৌঁছিব?’ সংস্কৃতির স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রীঅরবিন্দ লিখেছেন : ‘পৃথিবীতে স্বর্গরাজ্য স্থাপনই সংস্কৃতির জীবন্ত লক্ষ্য।’ তাঁর মতে, সংস্কৃতির অবস্থান মানুষের চেতনার মধ্যে—মানুষের সব কর্মকাণ্ডের মর্মে। যে দিব্যজীবনের কথা তিনি বলেছেন তা এই পৃথিবীতেই, পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো লোকে নয়। মানুষকে সাধনা দ্বারা এই ভূপৃষ্ঠেই দিব্যজীবন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাপনের শ্রেষ্ঠ উপায় সন্ধান করতে গিয়ে সোয়া দুই হাজার বছর আগে প্লেটো রচনা করেছিলেন ‘রিপাবলিক’। তাঁর ধারণা হয়েছিল যে ভালো রাষ্ট্রেই ভালো জীবনযাপন সম্ভব। চিন্তার বেলায় যেমন, কাজের বেলায়ও তেমনি। দেখা যায়, ইউরোপ তার ইতিহাসের সূচনা থেকেই রাষ্ট্রচিন্তায় ও রাজনীতিতে গুরুত্ব দিয়েছে। গ্রেকো-রোমান-ইউরো-আমেরিকান চিন্তায় ইতিহাসে দর্শন ও বিজ্ঞানের সঙ্গে রাষ্ট্রচিন্তাও সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিয়ে থেকেছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রাষ্ট্রসমূহের উন্নতির ও শক্তিশালী হওয়ার নানা কারণের মধ্যে এটা একটা। রাষ্ট্রচিন্তায় ও রাজনীতিতে যথোচিত গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে পৃথিবীর দক্ষিণাঞ্চলের জাতিসমূহ পিছিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ১৯৮০-র দশক থেকে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন চলছে, তার সঙ্গে দরকার রাজনীতির যথার্থ উন্নতি। তার জন্য দরকার চলমান উন্নয়নচিন্তার সঙ্গে প্রগতির ধারণার সমন্বয় সাধন। নতুন চিন্তা নিয়ে কাজের ধারাকেও নবায়িত করতে হবে।

লেখক : প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, আহমদ শরীফ অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews