বাল্যবিয়ে রোধে দেশে আইন রয়েছে। তার পরও বাল্যবিয়ে দিন দিন বাড়ছে। কারণ এই আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তা অনেকে জানেন না। বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে এবং বাল্যবিয়ের ক্ষতির বিষয়ে সবাই সচেতন হলে কমবে বাল্যবিয়ে। এ জন্য সঠিক প্রচার প্রয়োজন। এ ছাড়া বাল্যবিয়ে রোধে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দও রাখতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সমকাল ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বাল্যবিয়ে বন্ধে চাই সামাজিক প্রতিরোধ' শীর্ষক সংলাপে এসব অভিমত উঠে আসে। সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকনের সঞ্চালনায় এ আলোচনায় অংশ নেন উন্নয়ন সংগঠন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হেড অব ইনফ্লুয়েন্সিং কাশফিয়া ফিরোজ, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম সম্পাদক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পরিচালক নাছিমা আক্তার জলি, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার (জেন্ডার) তাহমিনা হক এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সোমা দত্ত। অনুষ্ঠানটি সমকালের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সংলাপে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯-এর প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের এক-তৃতীয়াংশই এখন বিবাহিত। সাত বছর আগে ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে যেসব নারীর বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে, তাদের সাড়ে ১৫ শতাংশের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ১৮ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ২০ থেকে ২৪ বয়সীদের মধ্যে ৫১ শতাংশের বেশি নারীর ১৮ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে। সাত বছর আগে এই হার ছিল ৫২ শতাংশের বেশি।
সংলাপে অংশ নিয়ে কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে আইনের বাস্তবায়ন চাই। আইন বাস্তবায়নে যে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োগের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি এর আইনগত দিক নিয়েও ধারণা থাকতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমাম, কাজিসহ সবাইকে বাল্যবিয়েরোধী আন্দোলনে সংযুক্ত করতে হবে। এটা শুধু নারী অধিকার ইস্যু হিসেবে গণ্য করা যাবে না, এটাকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে। সমাজের পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। কর্মপরিকল্পনায় যেসব কমিটির কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে তৎপর হতে হবে। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের আলোচনার টেবিলের আনতে হবে, তাদের মতামত আমলে নিতে হবে। কাশফিয়া বলেন, প্রচারে ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব দিক তুলে ধরতে হবে। আইনের শাস্তির বিধানগুলোকে ফোকাস করতে হবে।
নাছিমা আক্তার জলি বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করার লক্ষ্যে ১৮৮টি সংগঠন মিলে একত্রে কাজ করছি। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না, যদি না সরকার সঙ্গে থাকে। সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন এনজিওর সমন্বিত উদ্যোগেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিয়ের হার বেশি। তাই তৃণমূলে নেতৃত্বদানকারীদের এই ফোরামে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি জানান, করোনাকালে বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে। বাল্যবিয়ে ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। এই বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করাসহ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে সম্পর্কিত আইন বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। মসজিদ ও মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে।
নাসিমা আক্তার জলি বলেন, আইনের প্রয়োগ হতে হবে। বাস্তবতা হলো, ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন নিয়ে সেভাবে পৌঁছাইনি। বিধিতে কী আছে, আইনে কী আছে- অনেকেই জানেন না। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের একটি সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাল্যবিয়ের শেকড় অনেক গভীরে। কমিউনিটিকে যারা লিড করছেন, তাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার রূপান্তর ঘটেনি। বাল্যবিয়ে হওয়ায় এখনও কাউকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। মানুষের কাছে যখন কোনো উদাহরণ থাকে না, তখন গুরুত্বও বাড়ে না। ফলে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের তেমন প্রয়োগ নেই।
তাহমিনা হক বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত আইন, বিধিমালা ও কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়নকারী সরকারি কর্তৃপক্ষও আছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। তিনি বলেন, কিশোরীদের নিয়ে গড়ে তোলা সূর্যকিশোরী বা স্বর্ণকিশোরী সফলতার মুখ দেখেছিল। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে না।

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আইনে যে বিধিগুলো রয়েছে, সেখানে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কমিটি থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু অনেক ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কমিটি নেই। অনেকেই জানেন না, বাল্যবিয়ে রোধে কমিটি করতে হয়, জানেন না এ কমিটির কার্যক্রম কী। এ অবস্থায় মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সরকারের প্রতিটা স্তরকে নারীবান্ধব হতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীবান্ধব। তাই ২০১৮-২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে নিরোধ-সংক্রান্ত ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বার্তাও পাঠিয়েছেন।

সোমা দত্ত বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে নানা সংগঠন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতাগুলো শুনতে হবে, তা হলে একটা দিকনির্দেশনা পাব। নিজেদের কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তৃণমূলের লোকজনদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। অভিভাবক, কিশোর, যুবক শ্রেণি, স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের সচেতন করতে ভূমিকা রাখছে।

সোমা দত্ত বলেন, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের কিছু ধারা সংশোধন হওয়া উচিত। এজন্য জনমত গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। আইনের প্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আইন প্রণয়ন করেন এবং যারা আইন প্রয়োগ করেন, তারা এটাকে কীভাবে দেখছেন, আবার আইনের সুবিধাভোগীরা এই আইনকে নিজেদের জন্য কীভাবে ব্যবহার করতে চায়, এই বিষয়গুলোর সমন্বয় জরুরি। তিনি বলেন, করোনাকালে সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে গতি কমার ফলে বাল্যবিয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে ইতিবাচক সংবাদ হলো, কিশোর-কিশোরীরা সংগঠিত হচ্ছে। তারা অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও এসব উদ্যোগকে সামাজিকভাবে খুব বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে না। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ সমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সংলাপে সঞ্চালক শেখ রোকন বলেন, প্রশাসন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক উদ্যোগ, সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের সমাজ এখনও বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পায়নি। বাল্যবিয়ের অগ্রহণযোগ্য খবর দেখে আমারা অনেক সময়ই সম্পাদকীয় লিখি এই শিরোনামে- 'এখনও গেল না আঁধার'। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের সমাজে জমা হওয়া এই আঁধার সামাজিক শক্তি দিয়ে কীভাবে কাটানো যায়, এ নিয়ে আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাল্যবিয়ে রোধে দেশে আইন রয়েছে। তার পরও বাল্যবিয়ে দিন দিন বাড়ছে। কারণ এই আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তা অনেকে জানেন না। বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে এবং বাল্যবিয়ের ক্ষতির বিষয়ে সবাই সচেতন হলে কমবে বাল্যবিয়ে। এ জন্য সঠিক প্রচার প্রয়োজন। এ ছাড়া বাল্যবিয়ে রোধে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দও রাখতে হবে।গতকাল মঙ্গলবার সমকাল ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বাল্যবিয়ে বন্ধে চাই সামাজিক প্রতিরোধ' শীর্ষক সংলাপে এসব অভিমত উঠে আসে। সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকনের সঞ্চালনায় এ আলোচনায় অংশ নেন উন্নয়ন সংগঠন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হেড অব ইনফ্লুয়েন্সিং কাশফিয়া ফিরোজ, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম সম্পাদক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পরিচালক নাছিমা আক্তার জলি, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার (জেন্ডার) তাহমিনা হক এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সোমা দত্ত। অনুষ্ঠানটি সমকালের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।সংলাপে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯-এর প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের এক-তৃতীয়াংশই এখন বিবাহিত। সাত বছর আগে ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে যেসব নারীর বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে, তাদের সাড়ে ১৫ শতাংশের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ১৮ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ২০ থেকে ২৪ বয়সীদের মধ্যে ৫১ শতাংশের বেশি নারীর ১৮ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে। সাত বছর আগে এই হার ছিল ৫২ শতাংশের বেশি।সংলাপে অংশ নিয়ে কাশফিয়া ফিরোজ বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে আইনের বাস্তবায়ন চাই। আইন বাস্তবায়নে যে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োগের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি এর আইনগত দিক নিয়েও ধারণা থাকতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমাম, কাজিসহ সবাইকে বাল্যবিয়েরোধী আন্দোলনে সংযুক্ত করতে হবে। এটা শুধু নারী অধিকার ইস্যু হিসেবে গণ্য করা যাবে না, এটাকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে। সমাজের পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। কর্মপরিকল্পনায় যেসব কমিটির কথা বলা হয়েছে, সেগুলোকে তৎপর হতে হবে। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের আলোচনার টেবিলের আনতে হবে, তাদের মতামত আমলে নিতে হবে। কাশফিয়া বলেন, প্রচারে ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব দিক তুলে ধরতে হবে। আইনের শাস্তির বিধানগুলোকে ফোকাস করতে হবে।নাছিমা আক্তার জলি বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করার লক্ষ্যে ১৮৮টি সংগঠন মিলে একত্রে কাজ করছি। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না, যদি না সরকার সঙ্গে থাকে। সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন এনজিওর সমন্বিত উদ্যোগেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিয়ের হার বেশি। তাই তৃণমূলে নেতৃত্বদানকারীদের এই ফোরামে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি জানান, করোনাকালে বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে। বাল্যবিয়ে ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। এই বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করাসহ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে সম্পর্কিত আইন বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। মসজিদ ও মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে।নাসিমা আক্তার জলি বলেন, আইনের প্রয়োগ হতে হবে। বাস্তবতা হলো, ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন নিয়ে সেভাবে পৌঁছাইনি। বিধিতে কী আছে, আইনে কী আছে- অনেকেই জানেন না। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের একটি সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাল্যবিয়ের শেকড় অনেক গভীরে। কমিউনিটিকে যারা লিড করছেন, তাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার রূপান্তর ঘটেনি। বাল্যবিয়ে হওয়ায় এখনও কাউকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। মানুষের কাছে যখন কোনো উদাহরণ থাকে না, তখন গুরুত্বও বাড়ে না। ফলে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের তেমন প্রয়োগ নেই।তাহমিনা হক বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত আইন, বিধিমালা ও কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়নকারী সরকারি কর্তৃপক্ষও আছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। তিনি বলেন, কিশোরীদের নিয়ে গড়ে তোলা সূর্যকিশোরী বা স্বর্ণকিশোরী সফলতার মুখ দেখেছিল। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে না।বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আইনে যে বিধিগুলো রয়েছে, সেখানে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কমিটি থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু অনেক ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কমিটি নেই। অনেকেই জানেন না, বাল্যবিয়ে রোধে কমিটি করতে হয়, জানেন না এ কমিটির কার্যক্রম কী। এ অবস্থায় মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সরকারের প্রতিটা স্তরকে নারীবান্ধব হতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীবান্ধব। তাই ২০১৮-২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে নিরোধ-সংক্রান্ত ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বার্তাও পাঠিয়েছেন।সোমা দত্ত বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে নানা সংগঠন মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতাগুলো শুনতে হবে, তা হলে একটা দিকনির্দেশনা পাব। নিজেদের কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তৃণমূলের লোকজনদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। অভিভাবক, কিশোর, যুবক শ্রেণি, স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের সচেতন করতে ভূমিকা রাখছে।সোমা দত্ত বলেন, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের কিছু ধারা সংশোধন হওয়া উচিত। এজন্য জনমত গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। আইনের প্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আইন প্রণয়ন করেন এবং যারা আইন প্রয়োগ করেন, তারা এটাকে কীভাবে দেখছেন, আবার আইনের সুবিধাভোগীরা এই আইনকে নিজেদের জন্য কীভাবে ব্যবহার করতে চায়, এই বিষয়গুলোর সমন্বয় জরুরি। তিনি বলেন, করোনাকালে সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে গতি কমার ফলে বাল্যবিয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে ইতিবাচক সংবাদ হলো, কিশোর-কিশোরীরা সংগঠিত হচ্ছে। তারা অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝাতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও এসব উদ্যোগকে সামাজিকভাবে খুব বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে না। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ সমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।সংলাপে সঞ্চালক শেখ রোকন বলেন, প্রশাসন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক উদ্যোগ, সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের সমাজ এখনও বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পায়নি। বাল্যবিয়ের অগ্রহণযোগ্য খবর দেখে আমারা অনেক সময়ই সম্পাদকীয় লিখি এই শিরোনামে- 'এখনও গেল না আঁধার'। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের সমাজে জমা হওয়া এই আঁধার সামাজিক শক্তি দিয়ে কীভাবে কাটানো যায়, এ নিয়ে আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews