একটি লাল কার্ড, আরেকটি লাল কার্ড ‘না-হওয়া’, ভার-সিদ্ধান্তে একটি গোল বাতিল - মার্সিসাইড ডার্বিতে মূল খেলার বাইরের সব উত্তেজক সব উপকরণই ছিল। তবে লিভারপুল শনিবারের এ ম্যাচে হারাতে পারেনি এভারটনকে। পিছিয়ে পড়েও নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ফেলেছে এভারটন। আর এতে নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত শুরু করা এভারটন অপরাজিত থেকে শীর্ষেই রইলো। পাঁচ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৩। চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে।

আন্তর্জাতিক বিরতির আগে, অর্থাৎ কেবলই আগের ম্যাচটিতে ‘পুঁচকে’ অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৭-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে গুডিসন পার্কে মরিয়া ছিল জয়ের জন্য। এক দশকের মধ্যে মার্সিসাইড ডার্বিতে তারা হারেনি, কার্লো আনচেলত্তি যতই এভারটনের উজ্জীবনী মন্ত্র হোন না কেন, লিভারপুল জয়ই আশা করেছিল। কিন্তু যোগ হওয়া সময়ে হেন্ডারসনের গোলে যখন জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে তারা, তখনই বেরসিক ‘ভারে’র অবাঞ্ছিত বাধা। ভার দেখায় হেন্ডারসন বল জালে ঠেলার আগে ‘সেন্টিমিটার’ ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন সাদিও মানে। ব্যস, গোল বাতিল। ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র। তিন মিনিটের সময় গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সাদিও মানে। ১৯ মিনিটে মাইকেল কিনের গোলে সমতায় ফেরে এভারটন। ৭২ মিনিটে মোহামেদ সালাহর গোলে আবার এগিয়ে যায় লিভারপুল, যেটি ছিল ক্লাবের হয়ে তার শততম গোল। ৮১ মিনিটে ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের গোলে আবার সমতা ফেরায় এভারটন। আর ৯২ মিনিটে জর্ডান হেন্ডারসনের গোল বাতিল করেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি, ভার।

এই ‘ভার’ সিদ্ধান্তে লিভারপুল ক্ষুব্ধ, কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ তো প্রচণ্ড খেপে গেছেন। ম্যাচের পর বলেছেন, ‘আমি ভারের দারুণ একজন সমর্থক। কিন্তু এই ভার-সিদ্ধান্ত বুঝতে পারলাম না আমি।’

এত সূক্ষ্ম ব্যবধানে ‘অফসাইড’ সিদ্ধান্তে হেন্ডারসনের গোল বাতিল হওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ক্লপের, কম কষ্ট হচ্ছে না এভারটন গোলকিপার পিকফোর্ড ভার্জিল ফন ডাইককে মারাত্মক ফাউল করেও লাল কার্ড না পওয়ায়। কোনও কার্ডই দেখানো হয়নি তাকে,  অথচ ফন ডাইক গোল করতে যাওয়ার মুহূর্তে সহকারী রেফারি অফসাইডের জন্য পতাকা তুলেছেন। ক্লপ মনে করেন ভারের মাধ্যমে এটি যাচাই করা উচিত ছিল। অফসাইড না হলে ওটা ১০০% পেনাল্টি ছিল। ছয় মিনিটে  ওই ‘জঘন্য’ ফাউলের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফন ডাইককে। থিয়াগো আলকান্তারাকে মারাত্মক ফাউল করে  ৯০ মিনিটে লাল কার্ড দেখেছেন এভারটনের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। দলের অপরিহার্য দুই খেলোয়াড়ের হাঁটুর মারাত্মক চোট দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ক্লপকে।

শনিবার রাতেই ম্যানচেস্টার সিটি রাহিম স্টার্লিংয়ের ২৩ মিনিটের গোলে (১-০) হারিয়েছে আর্সেনালকে। সিটি নিজেদের মাঠে বড় দলকে হারাতে পারলেও চেলসি নিজেদের মাঠে হারাতে পারেনি ছোট দলকে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল ৩-৩ গোলে ড্র করেছে সাউদাম্পটনের সঙ্গে। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র করাটা তাদের জন্য খুব হতাশার। চেলসির হয়ে গোল করেছেন দুই জার্মান ফরোয়ার্ড টিমো ভার্নার (২) ও কাই হ্যাভার্টজ। পাঁচ ম্যাচ শেষে আর্সেনাল ও চেলসির পয়েন্ট ৯ ও ৮। পয়েন্ট তালিকার পাঁচ ও ছয়ে রয়েছে তারা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews