২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হচ্ছে না। খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি। তা প্রকাশ করতে পারেনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৫ মার্চ পর্যন্ত খসড়া তালিকার বিষয়ে আপত্তি, অভিযোগ বা ভুল সংশোধনীর কথা থাকলেও সে সুযোগও আপাতত নেই। তালিকা প্রকাশ নিয়ে নতুন করে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। 

সূত্র জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ উপজেলা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের খসড়া তালিকা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকেও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এ কারণেই তালিকা করতে পারেনি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। তবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জামুকা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা নিবাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং করোনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, ‘১৫ তারিখ খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে পারিনি, কারণ উপজেলা পর্যায় থেকে খসড়া তালিকা সম্পর্কিত প্রতিবেদন পুরোপুরি হাতে পাইনি। তবে তারা কাজ করছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সোমবার বা মঙ্গলবার (২২-২৩ ফেব্রুয়ারি) পরবর্তী তারিখ জানা যাবে। একইসঙ্গে তালিকার বিষয়ে অভিযোগ কতদিনের মধ্যে দাখিল করা যাবে সে দিনক্ষণও ঠিক হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গেজেটে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকার বিষয়ে অভিযোগ যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি খসড়া প্রকাশ হবে। ১৫ মার্চ পর্যন্ত খসড়ার বিষয়ে শুনানি হবে এবং ২৬ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে।

এদিকে জামুকার অনুমোদন ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট যাচাইয়ের কাজ চলছে। কয়েকদফা তারিখ পরিবর্তনের পর ৩০ জানুয়ারি থেকে প্রতিটি উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যে সব উপজেলায় ৩০ জানুয়ারি পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে সুবিধাজনক দিনে যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা থাকলেও তা ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে শেষ হয়নি। 

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা জানিয়েছেন, ‘৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭১তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাই হয়েছে। প্রতিবেদনও পাঠিয়েছি।’  

পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘৩০ জানুয়ারি স্থানীয় পৌরসভার নির্বাচন হয়েছে বলে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ জামুকার দেওয়া তারিখ অনুযায়ী শুরু করতে পারিনি। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ করেছি। তালিকা সম্পর্কিত প্রতিবেদনও পাঠিয়েছি।’

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ১৯ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও ৯ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরে তা বাড়িয়ে ৩০ জানুয়ারি করা হয়।

‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২’ এর ৭ (ঝ) ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেসামরিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে ৩৯ হাজার ৯৬১ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে।

সূত্র জানায়, জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদের নাম সংশোধন করে নতুন করে ৩৮ হাজার ৩৮৬ বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আবারও জানিয়েছেন, নতুন করে কারও নাম তালিকায় ওঠানোর সুযোগ নেই। তবে জামুকার পরিচালক (যুগ্মসচিব) সেলিম ফকির জানিয়েছেন, যারা ২০১৪ ও ২০১৭ সালে জামুকায় আবদন করেছেন তাদের আবেদনপত্রগুলোর ওপর শুনানি হবে। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews