ঈদের গান হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” – গানটি প্রায় এক শতাব্দি ধরে ঈদ উৎসবের গান হিসেবে অদ্বিতীয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই গান রচনার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা বাংলা গানের আরেক দিকপাল আব্বাস উদ্দীন আহমদের। কাজী নজরুল ইসলামের গুণমুগ্ধ ভক্ত আব্বাস উদ্দীন একদিন কবিকে বললেন, আপনি তো সনাতন ধর্মের অনুসারীদের জন্য অনেকগুলো শ্যামসংগীত ও ভজন-কীর্তন ইত্যাদি রচনা করলেন, আমার অনুরোধ – আপনি কিছু ইসলামী গানও লিখুন। সনাতনধর্মী না হয়েও আপনি যেভাবে হিন্দুধর্মের ভক্তিমূলক গান লিখেছেন, যদি ইসলামী সংগীতও আপনার হাত দিয়ে লেখা হয়, সেগুলোও হবে অদ্বিতীয়। ধর্মকে এত গভীরভাবে আপনার চেয়ে কোন কবি আর বেশি বোঝেন?
নজরুল তাঁর শিষ্য আব্বাসকে খুবই পছন্দ করতেন, তিনি তৎক্ষণাৎ কথা দিলেন, ইসলামী গান তিনি লিখবেন। এবং একদিন জানালেন, তিনি একটা গান লিখেছেন, বিশেষত ঈদুল ফিতরের মহিমা বর্ণনা করে। আরও জানালেন, গানটি নিজেই সুরারোপ করেছেন কবি। ভক্তের অনুরোধে গেয়েও শোনালেন তিনি গানটি। আব্বাস উদ্দীন সাথে সাথে আব্দার করে বসলেন, এই গান তিনি গাইতে চান, রেকর্ড করতে চান। কবি আপত্তি করলেন না। ফলে, রচনার ঠিক চার দিনের মাথায় তৎকালীন ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ লেবেল-খ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি অব ইন্ডিয়া থেকে রেকর্ড করা হলো গানটি, ১৯৩১ সালের মাঝামাঝি সময়ে। আব্বাস উদ্দীনের বয়স তখন মাত্র ২৩ বছর। রচনার চার দিনের মাথায় রেকর্ড করা হলেও সেই রেকর্ড প্রকাশ পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগলো। সকলের অনুরোধে গানটি প্রকাশিত হলো পরবর্তী ঈদের সময়ে, ১৯৩২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। একই রেকর্ডে এক সাথে দুটি ইসলামী গান প্রকাশিত হলো, দুটিই নজরুলের রচনা ও আব্বাস উদ্দীনের গাওয়া। এক পিঠে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’, অপর পিঠে ‘ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর, বদনসীব আয়, আয় গুনাহগার নতুন করে সওদা কর।’ (গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ড নং এন - ৪১১১।)
প্রকাশের পরপরই গানটি ‘রেকর্ডের গান’ হিসেবে প্রচারিত হলো রেডিওতে। তখনও আকাশবাণী আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেনি। কলকাতা ও মুম্বাইয়ে দুটি পৃথক বেতার সম্প্রচার চালানো হতো ব্যক্তিগত ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে।
এই বেতারই ১৯৩০ সালে জাতীয়করণ করা হয় এবং ১৯৩৬ সাল থেকে ভারতের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টারে পরিণত হয়, যার বর্তমান নাম ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’ বা ‘আকাশবাণী’। যাইহোক, সেই বেতারেই প্রচার হলো এই ঈদের গান। ফলে অচিরেই গানটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লো সমগ্র বাংলায়। কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী গান হিসেবে এটিই প্রথম সৃষ্টি, যা “হিন্দুত্ববাদের কবি” থেকে “সেক্যুলার কবি” হিসেবে তাঁর ইমেজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিলো।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ারও অনেক আগে এই গানটি ‘রেডিও পাকিস্তান’-এর বাংলা সম্প্রচারের জন্য রেকর্ড করা হয় বেদারউদ্দিন আহমদের কণ্ঠে। আমাদের শৈশবে ঈদের চাঁদ উঠলে রেডিওতে এই গানের যে সংস্করণ আমরা বাজতে শুনতাম, সেটি ছিল বেদারউদ্দিনের কণ্ঠের গানটি। পরবর্তীতে অসংখ্য শিল্পী এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। অন্তত বাংলাদেশের সব কণ্ঠশিল্পীই হয়তো কোথাও না কোথাও, কোনও না কোনও মাধ্যমে একবারের জন্য হলেও গানটি প্রকাশ্যে গেয়েছেন। খুব সম্ভবত সর্বোচ্চ সংখ্যক শিল্পীর কণ্ঠে ধারণকৃত নজরুল সংগীত হলো ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’।
নজরুল গানটির মোট ছয়টি অন্তরা রচনা করেন। আব্বাসউদ্দীন এই ছয়টি অন্তরাই গেয়েছিলেন প্রথম রেকর্ডিংয়ে। বেদারউদ্দিনের কণ্ঠে রেকর্ড করা প্রথম সংস্করণেও ছয়টি অন্তরাই ছিল। পাকিস্তান সরকার পরে তাদের সুবিধামতো একটি অন্তরা বাদ দিয়ে দেয়, যেখানে কবি লিখেছিলেন, ‘যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী/ সেই গরিব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ’। এরপর বাদ পড়ে আরো একটি অন্তরা, যেখানে তিনি সহিংস বিদ্বেষ প্রদর্শনকারীদের ক্ষমা করে দিয়ে ভালোবাসার সবচেয়ে পবিত্র নজির গড়তে উৎসাহ দেন। এখন বাংলাদেশে চার অন্তরার গান হিসেবেই এটি প্রচারিত হয়, কখনও কখনও সেই চারটি থেকেও একটি বা দুটি অন্তরা বাদ পড়ে যায়!
মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদ দুটি হলেও নজরুল গানটিকে বিশেষত ঈদুল ফিতরের জন্য নির্দিষ্ট করে দেন। সম্ভবত ত্যাগের ও আত্মত্যাগের নজির হিসেবে যে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়, তাকে তিনি ‘খুশির ঈদ’ বলে ভাবতেন না। কিন্তু ঈদুল ফিতরকে খুশির ঈদ হিসেবে উল্লেখ করলেও কবি এই গানে ঈদের যে বর্ণনা দিয়েছেন, সেখানেও ত্যাগের কথাই তিনি বলেছেন ঘুরেফিরে। দ্বিতীয় লাইনেই তো তিনি বলেছেন নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা এবং সেটাও করতে বলেছেন ‘আসমানী তাগিদ’ বা আল্লাহ্ পাকের আদেশ পালনের আবশ্যকতা হিসেবে। অর্থাৎ ঈদ মানেই আল্লাহ্’র আদেশে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারা, তাতেই ঈদ পরিণত হয় খুশির ঈদে।
এরপর প্রথম অন্তরা শুরু হয় দান-সদকা-যাকাতের কথা দিয়ে। গোটা রমজান মাসই যাকাত আদায় করার জন্য উত্তম, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এইখানে যাকাত বলতে কবি বুঝিয়েছেন ফিতরার কথা, যা প্রদান করা হলো ঈদুল ফিতর উদযাপনের আবশ্যিক দায়িত্ব। ফিতরার জন্যই তো এই ঈদের নাম ঈদুল ফিতর। এবং ফিতরা আদায় করা, তাও ঈদের জামাতে দাঁড়ানোর আগেই – এ এমন এক বিধান, যা এড়ানোর সাধ্য সামর্থবান কোনও মুসলিমের নেই, এ কথা স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন। সে কথাই একদম শুরুতে নজরুল স্মরণ করিয়ে দিলেন, এবং তার ফজিলত হিসেবে বললেন, এই যাকাত বা সদকা আদায়কারীর ধনসম্পদ, সংসার-পরিবার সবকিছু নিরাপদ থাকবে, যদি তিনি যাকাত আদায় করেন। এবং এই সদাচারের মাধ্যমেই ধর্ম সম্পর্কে অসচেতন বা উদাসীন ‘মূর্দা’ মুসলিমদের ঘুম ভাঙ্গাতে হবে। নয়তো, নিজের উপার্জনকে সবার সাথে ভাগাভাগি না করলে জাতি হিসেবে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব কি আদৌ বেঁচে থাকবে?
এরপর আসে ঈদের নামাজের কথা। ঈদের নামাজ যে ঈদগাহে আদায় করা হবে, তাকে তিনি সেই ময়দানের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ হয়েছিল, অনেক গাজী বা বিজয়ী সেই ময়দানে শহীদ হয়েছিলেন। এটাকে আমি একটা মেটাফোর হিসেবে নিতে চাই। এখানে আমি গাজী বলতে যুদ্ধে বিজয়ী নয়, বরং যেকোনও ক্ষেত্রেই নিজেকে যারা বিজয়ী বলে গর্ব করেন, তাদের কথা বুঝতে চাই। এই জন্য যে, সেই গাজীদের এই ময়দানে অর্থাৎ ঈদগাহে এসে শহীদ হতে বলছেন কবি – অর্থাৎ সবসময়ে জিতে থাকার চেষ্টায় বা প্রবণতায় ছাড় দিয়ে বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে শহীদ হয়ে যেতে বা হার স্বীকার করে নিতে আপত্তি না করাই হলো ঈদের চেতনা। সবচেয়ে বড় জিহাদ যদি হয়ে থাকে নিজের অন্তর্গত রিপুকে দমন করতে পারা, তাহলে সবচেয়ে বড় শহীদ তো তিনিই, যিনি নিজের ভেতরের সব কলুষতাকে ঝেড়ে ফেলে হাসিমুখে পরাজয় স্বীকার করে নিতে জানেন। অর্থাৎ ঈদগাহে আমরা তখনই প্রবেশ করতে পারবো, যখন আমাদের ঔদ্ধত্ব, গর্ব ও অহঙ্কারকে ঈদগাহের বাইরে ঝেড়ে ফেলে আমরা ভেতরে প্রবেশ করবো বিনয়ী হয়ে।
এর পরের অন্তরায় তিনি বললেন, ব্যক্তিগত জেদ বা গোঁ ধরে থাকার প্রবণতা ঝেড়ে ফেলতে। ইগো’র বশবর্তী হয়ে আমরা দোস্তকেও দুশমন বানিয়ে ফেলি, কাছের মানুষদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করি, তাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এই ইগো বা আত্ম-অহঙ্কার ভুলে সবার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে জগতজুড়ে সৌহার্দ্যের উদাহরণ সৃষ্টি করতে বললেন কবি। নামাজ শেষে সবাই সবার সাথে হাত মিলিয়ে বুক মিলিয়ে তবেই বেরিয়ে আসবো ঈদগাহ্ থেকে – এই প্রত্যাশা কবি জানিয়ে রাখলেন।
তারপরই তিনি স্মরণ রাখতে বললেন ঈদগাহের বাইরে অপেক্ষমান আমাদের সমর্থনপ্রত্যাশীদের কথা। এই মানুষদের জন্য রোজা তো কেবল এক মাসের সিয়াম সাধনা নয়। এরা তো সারা বছরই অর্থাভাবে রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, উপবাসে থাকছেন প্রতিটি দিন। আজ ঈদের দিন, যে দিনটিতে রোজা রাখা সকল মুসলিমের জন্য হারাম, সেই দিনটিও কি তাদের পাতে আহার জুটবে না? সেই গরিব, এতিম, মিসকিনদের কাউকে বিমুখ করে, হতাশ-নিরাশ করে কি আমরা ঘরে ফিরে ঈদের ভোজে অংশ নিতে পারবো? সেই ভোজ কি আদৌ খুশির হবে?
তারপর কবি বলছেন আধ্যাত্মিকতার কথা। যেটি ঈদের চেতনার সবচেয়ে প্রধান দিক বা দার্শনিক দিক। এই যে আমরা ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়ন করি, বাড়িতে আসা মেহমান বা বন্ধু-স্বজনদের যত্ন করে খাবার পরিবেশন করে খাওয়াই, সেটির দার্শনিক দিকটি উন্মোচন করলেন তিনি। কবি বলছেন, তোমার বাড়ির সুন্দর পাত্রে তুমি যেভাবে খাবার পরিবেশন করো, ঠিক সেইভাবে তুমি তোমার হৃদয়ের পাত্রে তৌহিদের সিন্নি পরিবেশন করো। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাকের জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য তোমার ঈমানকে তুমি তোমার সবচেয়ে মহিমান্বিত নিবেদন হিসেবে পরিবেশন করো। এবং যদি আমি তা করতে পারি, কবি প্রত্যাশা জানালেন, আমার সেই দাওয়াত কবুল করবেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
আর একদম শেষে এসে কবি বলছেন ক্ষমার অনন্য নিদর্শন গড়তে চেষ্টা করতে। যারা তোমার ক্ষতি করে যাচ্ছে জীবনভর, তাদের সেই অনিষ্ট থেকেই ইষ্ট খুঁজে নাও। প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাই হোক তোমার পরম ধর্ম। ‘কারো মনে তুমি দিয়ো না আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবা’র গায়ে’ – এই কবিরই অনন্য-সাধারণ গান। তিনি আমাদের বলছেন, যে আঘাত তুমি পেয়েছো কারো দ্বারা, তার জন্য প্রতিঘাত না করে বরং তার জন্য দোয়া করো, যাতে তার দেওয়া আঘাতগুলোকে আল্লাহ্পাক তার প্রতি গুনাহ হিসেবে নয়, বরং তোমার করা প্রতিটি দোয়ায় তার জন্য ক্ষমা লিখে দেন।
প্রায় এক শতাব্দি ধরে এই গান ছাড়া বাংলার ঘরে ঘরে ঈদ আসে না। ঈদ নিয়ে কতশত, হাজার হাজার গান রচিত হলো, আরও হবে নিশ্চয়ই লক্ষ লক্ষ। কিন্তু এমন একটি গান বাংলা ভাষার আর কোনও কবি এতটা দরদ দিয়ে, এতটা যৌক্তিকভাবে, এতটা হৃদয় দিয়ে লিখতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি না।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব-নিখিল ইসলামে মুরিদ।
যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ
ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,
তোর দাওয়াত কবুল করবে হজরত হয় মনে উম্মীদ।
তোরে মারল’ ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।
---
পুনশ্চ: এই গানটির মূল স্বরলিপি নজরুলের রচনা সম্ভারে যুক্ত আছে। সেই স্বরলিপি অনুসরণ করলে দেখা যাবে, নজরুল গানটির ছয় অন্তরায় ছয় রকমের সুর দিয়েছেন, কোনো দুটি অন্তরাকে তিনি একই সুরে ফেলেননি। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্পী প্রথম অন্তরার ‘সোনা-দানা, বালাখানা’র যে সুর, সেই একই সুরে তৃতীয় অন্তরা ‘ভুলে যা তোর দোস্ত দুশমন’ অংশটাও গেয়ে থাকেন। এটা সঠিক সুর নয়। বরং এই তৃতীয় অন্তরাটি উচ্চ-স্বরগ্রামে, অনেকটা কাওয়ালি আঙ্গিকে গাওয়া হয়, যার সাথে ছোট্ট একটি আলাপও মূল স্বরলিপিতে যুক্ত আছে। নজরুল গীতিকার হিসেবে যতটা সমৃদ্ধ ছিলেন, সুরকার হিসেবে ছিলেন তার চেয়েও দক্ষ। তাঁর সুরের ভাণ্ডার ছিলো অফুরন্ত ধনসম্পদে ভরপুর। তাঁর অনেক গানই রয়েছে, যেখানে তিনি কোনো লাইনের সাথে কোনো লাইনের সুর রিপিট করেননি। যেমন, ‘এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী’, কিংবা ‘আমরা নতুন আমরা কুঁড়ি নিখিল বন-নন্দনে’। রমজানের ঐ রোজার শেষে গানটিও এমন একটি সমৃদ্ধ গান।
---
“রমজানের ঐ রোজার শেষে”, অর্থাৎ চাঁনরাতে বাংলা ভাষার এক অখ্যাত, মহামূর্খ, হতদরিদ্র (জ্ঞানের বিচারে) ও গুণমুগ্ধ কবির পক্ষ থেকে বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীত রচয়িতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। আল্লাহ্ পাক অনন্ত জীবনে আপনাকে শান্তি দিন, আপনাকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।
ঈদ মুবারক।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার ও উন্নয়ন গবেষক
[email protected]